ধর্মঘট পালনের নিয়মাবলী-(Guide to taking strike action)

ধর্মঘট পালনের নিয়মাবলী-(Guide to taking strike action)

আপনি আপনার কর্ম ক্ষেত্রে ধর্মঘট পালনের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেন সেই বিষয়ে নিম্নে আলোকপাত করা হলোঃ

শ্রমিক শ্রেনীর বড় অস্ত্র হলো তাদের নিজস্ব শ্রম। শ্রমিক ছাড়া বস শ্রেনীর ভদ্রলকেরা মুনাফাসহ কিছুই করতে পারেন না । প্রতিবাদ বা দাবী আদায়ের জন্য ধর্মঘট একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। তবে তা হলো সর্ব শেষ পদক্ষেপ, এটার কারনে মজুরী বন্দ্ব হয়ে যায়। এটার কারনে অনেকেই আবার কাজ ও হারাতে পারেন। তাই সকল প্রচেস্টা ব্যার্থ হবার পরই এই পদক্ষেপ নিয়ে ভাবতে হয় শ্রমিকদের।

এখন দুনিয়ার প্রায় দেশেই শ্রমিকদের ধর্মঘট পালনের কম বেশী অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। যদি আপনি জবরদস্তি মূলক ভাবে কাজ হারিয়ে থাকেন বা কারখানা বন্দ্ব করে দেয়া হয়ে থাকে, বাধ্য হয়ে হরতাল বা ধর্মঘট যদি ডাকতেই হয়- তবে কি কি করবেন –সেই সম্পর্কে আমরা এখানে কিছু কথা বলব ।

সকলকে জড়িত করুন !

একটি ধর্মঘটে সকলকে জড়িত করা খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়, এই কর্মসূচির পিকেটিং, তহবীল সংগ্রহ করা, বক্তব্য দেয়া বা দল বেধে চক্কর দেয়া, সংশ্লিস্ট সকলের যাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং সভায় যৌক্তি পূর্ন ভাবে কথা বলা ইত্যাদি কাজ যথাযথ ভাবে সম্পাদিত  হওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এই কার্যসূচি কেবল মাত্র অগ্রসর সদস্য বা কমিটির কাজ নয় – এতে সকল স্তরের শ্রমিকদেরকে জড়িত করতে হবে। এতে সকলেই ভূমিকা রাখতে পারেন। সভা, সমাবেশ ও মিছিলে ভূমিকা রাখতে পারেন। ধর্মঘটের সাথে জড়িত প্রত্যেক লোককে তাদের নিজস্ব ভূমিকা ও তার শ্রেনী বিষয়ে সচেতন করতে হবে। একটি সফল ধর্মঘটের জন্য সকলের অংশগ্রহনে পিকেটিং হলে ভালো ফল লাভ করা যায় ।

সরাসরি গনতন্ত্রচর্চাঃ

সকল স্তরের ধর্মঘটকারীদেরকে সরাসরি এবং নিত্যনৈমিত্যিক সমস্যার বিষয়ে অভিহিত করা দরকার। সেই কাজে কর্মে ছোট ছোট দলে ভাগ করে ও জড়িত করা যায়। এতে তাদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্বি পাবে। সকল গুরুত্বপূর্ন সিদ্বান্ত সকল ধর্মঘটকারীদের উপস্থিতিতে গ্রহন করা দরকার। লোকদের তালিকা ধরে তাদেরকে নিজেদের কাজ কর্ম বুঝিয়ে দেয়া দরকার।

একটি ধর্মঘট পালনের জন্য যে সকল কাজ করা অতিব গুরুত্বপূর্ন তাদের একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হলো। যা যা আপনার এলাকায় দরকার তা ব্যবহার করতে পারেনঃ

  • পিকেটিং করা
  • কর্ম ক্ষেত্র সমূহ পরিদর্শন করা, কমিউনিটি সেন্টার ও ট্রেডইউনিয়ন সমূহতে মিটিং করা বক্তব্য রাখা এবং অর্থ সংগ্রহ করা।
  • ইউনিয়ন শাখা সমূহে রেজুলেশন গ্রহন করা
  • পিটিশন তৈরী করে স্বাক্ষর গ্রহন ও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সুপার মার্কেট ও কারখানায় যাওয়া।
  • অর্থ সম্পাদক সকল অর্থ সংগ্রহ ও খরচের প্রতি সতর্ক দৃস্টি দিবেন।
  • পোস্টার, লিফলেট তৈরী ও বিতরন করা
  • গবেষক টিমকে দিয়ে কোম্পানীর আর্থিক দিক সমূহের উপর প্রতিবেদন প্রস্তুত করা এবং তা অন্যান্য ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের সাথে মত বিনিময় করা
  • প্রেস ক্লাব ও গন মাধ্যমকে জড়িত করা
  • সমাজ কল্যান বিভাগের কর্মকর্তাকে জড়িত রাখা। যারা আইনগত সহায়তা দিতে পারেন তাদেরকে অভহিত করে রাখা। যেন কেহ গ্রেফতার হলে সহায়তা করতে পারেন ।
  • বিনোদন মূলক গ্রুপ ও দলকে তহবীল গঠন ও সামাজিক অধিকার বিষয়ে জড়িত করা। তারা সাধারন জনজনকে ধর্মঘটের বিষয়ে সচেতন করতে পারবেন। তহবীল গঠন ও জনগনের মুক্তির লড়াইকে তরান্বিত করতে পারেন।
  • নিউজলেটার সম্পাদক- নিয়মিত নিউজ লেটার প্রকাশ করা যেতে পারে। সম্ভব হলে প্রতিদিন। এতে জনগন হালনাগাদ থাকবেন। কোন প্রকার গুজবের কানদিবেন না। মানুষ ধর্মঘটের সাথে একাত্ম হবেন। সামগ্রীক বিষয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরী করে দ্রুত ছাপিয়ে প্রচারের ব্যবস্থাগ্রহন করতে হবে।
  • আইন অফিসার- যদি কেহ গ্রেফতার হন বা বিচারাধীন থাকেন তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এতে কর্মীগন নিজেদের দায়িত্বপালনে আত্ম বিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।
  • গনতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রন – সকল প্রকার সভা সমাবেশ, বিতর্ক, মতবিরোধ সব কিছুই গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রন করা উচিত।
  • ধর্মঘট কমিটি- এই কমিটি সরাসরি সাধারন সভায় নির্বাচন করা হবে। তাদেরকে আবার অন্য যে কোন সাধারন সভায় বদল করা যাবে। এই কমিটি দৈনিন্দিন কার্যক্রমের হিসাব নিবেন এবং সমন্বয় সাধন করবে। এই কমিটিতে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। নির্বাচিত হতে হবে। সভার কার্যবিবরনী যথাযথ ভাবে সংরক্ষন করা হবে । একজন সভাপতি, একজন সেক্রেটারী ও একজন অর্থ সম্পাদক থাকবেন।

নগদ অর্থঃ

যদি চুড়ান্ত পর্যায়ে ধর্মঘটে যেতেই হয় তবে তার আগেই প্রয়োজনীয় টাকা পয়সার ব্যবস্থা থাকা দরকার- যখনই  ধর্মঘট করা শুরু হবে তখনই টাকা পয়সার অভাব দেখা দিবে কারন তখন বেতন পাওয়া বন্দ্ব হয়ে যেতে পারে। অফিসিয়াল ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ সংগ্রাম তহবিল গঠন করতে পারেন এবং তা যথাযথ ভাবে পরিচালনা করতে পারেন যেন অভাবের কালে তা সুস্টভাবে ব্যবহার করা যায় ।

অফিসিয়াল যে কোন বিরোধ নিস্পত্তির কালেই এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে, তবে আনফিসিয়াল কোন খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না ।

ধর্মঘট পরিয়ালনা কমিটির একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো সংগ্রাম তহবিল গঠন করা এবং পরিচালনা করা । অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ও সেই কমিটি কাজ করবে । কোন অফিয়াল আমলা সেই ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না । তহবিলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের কোন প্রভাব থাকা ঠিক নয়। কেননা তারা এই তহবিলের ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মঘট নিয়ন্ত্রন করতে পারে। ফলে শ্রমিকদের সকল প্রচেস্টা ব্যার্থ হয়ে যেতে পারে।

কারখানা/কর্মক্ষেত্রই হল সত্যিকার অর্থের উতস। ইউনিয়ন গঠনের ধরন হবে অবশ্যই স্বীয় স্বার্থ ভিত্তিক। ধর্মঘটের সময়ে সকল কর্মী/ শ্রমিকদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পাওয়া যায়। যারা ধর্মঘট  করছেন তাদেরকে নিজের মত করেই সকল বিষয়ে সিদ্বান্ত নিতে হবে ।

তহবীলের টাকা পয়সার যথাযথ ভাবে হিসাব রাখা হবে। তহবীলের অর্থ খরচ করার জন্য কমিটির মিটিংয়ে সিদ্বান্ত হবে । অর্থ প্রায়স সমস্যার সৃস্টি করে থাকে, সেই বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকাতে হবে। একজন অর্থ সম্পাদক থাকাবেন যিনি সেই বিষয়ে সাধারন সভায় জবাবদিহী করবেন ।

গন মাধ্যমঃ

ধর্মঘটের জন্য বুলেটিন, লিফলেট, স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ করে জনসাধারনের মাঝে বিতরনের ব্যবস্থা করতে হবে, এবং পত্র পত্রিকায় প্রবন্দ্ব ও রচনা প্রকাশ করে জনমত গড়ে তোলা দরকার । সেই সকল প্রবন্দ্ব নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বাম ধারার লিখক, এনার্কিস্ট, ও সাম্যবাদিদের বই পত্র ও পুস্তিকা বিতরন করা যেতে পারে যা মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃস্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শ্রমিকদের মাঝে পারস্পরিক আলোচনার সূত্রপাত হবে। জনসভা, পথ সভা, মানুষের মাঝে জনমত গঠনে কাজ করবে। প্রতিটি লিফলেট তৈরী ও ছাপানোর সময় তা যেন স্থানিয় সংস্কৃতির প্রতিফল ঘটে সেই দিকে নজর রাখতে হবে ।

অফিসিয়াল এবং নন অফিসিয়ালঃ

আজ কাল প্রায়স অনুনোমদিত ধর্মঘট হয়ে থাকে, কোন ইউনিয়নের অনুমোদন ছাড়া ধর্মঘট করলে তা হয় অনুনোমদিত। এই বিষয় গুলি  ট্রেড ইউনিয়নের সংজ্ঞার দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে। তবে নানা দেশে নানা ভাবে তা নির্ধারন করা হয়ে থাকে। ট্রেড ইউনিয়ন গুলো যদি শ্রমিকদের স্বার্থ না দেখে কেবল মালিকদের পক্ষে অবস্থানে থাকে তবে –মালিক পক্ষ তাদের সম্পদের পরিমান দিনে দিনে বাড়াতেই পারে। সেই জন্য ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ তাদের পক্ষে রাখার সর্বাত্মক চেস্টা করে থাকে ।

আমরা এটার খুব গুরুত্ব দিতে চাই না যে ধর্মঘট অফিসিয়াল নাকি নন অফিসিয়াল, যদি কোন শ্রমিক পক্ষকে মালিক পক্ষ ধর্মঘট করতে বাধ্য করে তবে আমরা অবশ্যই তা সমর্থন করব। যদি কোন অফিসিয়া ইউনিয়ন সেই ধর্মঘট সমর্থন না করে তবে তাদেরকে অবশ্যই প্রত্যাখান করা হবে। এতে আমাদের কিছু যায় আসেনা। সময়ে তাদেরকে ও ন্যায় বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় করানো হবে । মালিক পক্ষের পরগাছাদের বিচার করা হবে । এরা দালাল হিসাবে চিহ্নিত হবে।

সার্বক্ষনিক ইউনিয়ন কর্মকর্তাঃ

ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের দির্ঘ ইতিহাস রয়েছে, এরা প্রথমিক ভাবে শ্রমিকদের ধর্মঘটে প্রথমিক ভাবে সমর্থন দিয়ে থেকে, এমন কি সহযোগীতা করার ও আস্বাস দিয়ে থাকে, কিন্তু যখনই আন্দোলন একটি স্তরে উন্নিত হয় তখন এরা মালিক পক্ষের নিকট থেকে সুবিধা নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামকে বেচে দেয়। আর নিজেদের আখের ইচ্ছেমত ঘুচিয়ে নেয়। তাই, প্রতিটি ধর্মঘট ডাকার আগে অবশ্যই একটি ধর্মঘট পরিচালনা কমিটি সকলের সমর্থন নিয়ে গঠন করতে হবে । এই কমিটি প্রতিটি কাজ সুন্দর ভাবে সম্পাদন করবে ।

অর্থাৎ ধর্মঘটকারীগন নিজেদেরকে সংগঠিত করবেন সম্পূর্ন স্বাধীনভাবে, কোন প্রকার আমলাতন্ত্রের প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। তবে ধর্মঘট কারীদেরকে তাদের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ও শুভাকাংখী সংগঠন ও ব্যাক্তিদের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

যদি ও স্বাভাবিক নিয়ম হলো সার্বক্ষনিক কর্মকর্তাগন ধর্মঘটকারীদের পক্ষের লোক হিসাবে থাকার কথা । কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, এরা প্রায়স শ্রমিক স্বার্থের বদলে মালিক পক্ষেই বেশী থাকে। ধর্মঘটের বিষয়ে অফিসিয়ালী যেসকল সিদ্বান্ত হয় তাতে তাদের সম্মতি থাকে, কিন্তু সুযোগ পেলেই তারা তাদের মত করে ব্যাখ্যা দেবার চেস্টা করে থাকে।

ইউনিউনের অফিসিয়াল কর্তাগন তাদের খরচ পাতির জন্য  তহবীল পেতে কোন প্রকার হুমকী পছন্দ করেন না । অফিসিয়াল কর্মকর্তাগন যদি ধর্মঘট সংক্রান্ত সভায় নেতিবাচক কথা বলে, বা নিরব থাকে বা আক্রমনাত্মক মন্তব্য করে তবে বুঝতে হবে এরা হয়ত বিক্রি হয়ে গেছে। অবশ্যইঃ ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

বিপ্লবী দল বা গ্রুপঃ

বিপ্লবাত্মক কার্যক্রমের জন্য এখন উপযুক্ত সময় নয়। যদি সেই প্রশ্নে কোন দল এগিয়ে  আসে তবে তাদের সামনে এই দাবী দাওয়ার বিষয় গুলো তোলে ধরুন। তাদের উচিত হলো ধর্মঘটকে সমর্থন করা এবং দাবী আদায়ের জন্য কাজ করা । তারা যদি ধর্মঘটের মত কার্যক্রমকে সমর্থন জানায় এবং সেই আলোকে কাজ করেন তবে তাদের সাথে বিপ্লবী কার্যক্রমের ধারনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ধর্মঘটের সংকট কালের সময়ে তাদের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বে হবে ।

ধর্মঘটকালিন সময়ে বিপ্লবীদলের লোক বাড়ানোর জন্য কাজ করা ঠিক নয়, ধর্মঘটের জন্য যে লগো বা শ্লোগান দেয়া হবে তা কোন ভাবে দলের নামে হবে না । এতে সাধারন মানুষের মাঝে একটি সার্বজনীন আবেদন তৈরী হবে। মানুষ সতস্ফুর্ত ভাবে লড়াই সংগ্রামের অংশ নিবেন।

ডাইরেক্ট একশন/সংহতি/ প্রচারনা এবং ইউনিয়ন বিরোধী আইনঃ

কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত পিকেটিং করার ব্যবস্থা রাখা দরকার যা ধর্মঘটকে প্রানবন্ত করে তোলবে। বড় বড় কর্মক্ষেত্রের জন্য নানা ভাবে ভাগ করে পিকেটিং করা দরকার। এই ক্ষেত্রে স্থান, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকরী পিকেটিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে । নইলে অনেক সময়েই আন্দোলনে ভাটা পড়তে পারে। এমনকি পরাজয় ও ডেকে আনতে পারে।

যদি ও এটা সত্যি যে মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে বসদের মাঝে তেমন ভয় সৃস্টি হবে না । তবে এই কাজ আগামীদিনে একটি দির্ঘ সময়ে বিশাল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি হিসাবে কাজ করতে পারে। পারস্পরিক সংহতি লড়াই সংগ্রামের জন্য খুবই সহায়ক বিষয় । আর সেই সংহতি অর্থই হলো দেশের নানা স্থানে নানা কর্মস্থলের কর্মীগন একেই সাথে নিজেদের দাবী আদায়ে একেই কার্যক্রম পালন করবেন । তবে তা সকল সময়ে কেবল শ্রমিক ইউনিয়নের জন্য নয়, তবে কোন কোন সময় নিয়োগ কর্তাদের জন্য  অধিক উতপাদন করার জন্য ও কাজ করতে হয়। প্রতিযোগীতায় ঠিকে থাকার জন্য ।

আপনি যাদের সাথে সং হতি বা একাতা গড়তে চান তাদেরকে নানা কর্মক্ষেত্রে পিকেটিং করতে নিয়োজিত করতে পারেন, এটা ঐক্য গড়ের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ । তারা একটি সংগ্রামী পরিবেশ তৈরী করতে সক্ষম হবেন- যা বসদেরকে কিছুটা হলে ও আতংকিত করতে পারবে। এই গুলোকে বিপ্লবী ইউনিয়নবাদের কাজ বলা যায়। সেই সময়ে বসেরা ইউনিয়ন বিরোধী আইনের সাহায্যে নিজেদের রক্ষা করতে কাজ করবে।

যখনই শ্রমিক শ্রেনীর পক্ষ থেকে দাবীর প্রশ্নে চাপ দেয়া হয় তখনই সার্বক্ষনিক ও বসদের নিয়োজিত ব্যবস্থাপকগন একেই কাতারে দাঁড়িয়ে যায় এবং রাস্ট্রীয় আইন ও প্রভাব খাটিয়ে শ্রমিকদেরকে দমিয়ে রাখার চেস্টা করে থাকে। তাই তাদের এহেন হুমকি থেকে লড়াই সংগ্রামকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে নিরাপদ দূরত্বে রাখাই বুদ্বিমানের কাজ ।

যদি সেই আইন হুমকি হয়ে দেখা দেয় বা ধর্মঘট কারীদের বিরুদ্বে ব্যবহার করে তবে সেই আইনের বিরুদ্বে ও সংগ্রাম করার দরকার হতে পারে। যে আইন ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে দমিয়ে রাখা যায়, সেই আইনে বসদের বিরুদ্বে ও ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ থাকতে হবে ।

“ প্রচলিত আইন না ভেঙ্গে কোন শ্রমিক আন্দোলন, বা ধর্মঘট হয় না – গনতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত শ্রমিক ইউনিয়নের কাজে রাস্ট্রের বাধা দেবার অধিকার নেই”।

ধর্মঘটের জন্য পিকেটিং যেমন গুরুত্বপূর্ন তেমনি সেই সময়ে শ্রমিকদেরকে নিয়ন্ত্রন করা ও গুরুত্বপূর্ন কাজ। কারা কারা পিকেটিংয়ে অংশগ্রহন করবেন তা সাধারন সভায় নির্বাচিত হওয়া দরকার। যদি তাদের বাহিরে অন্যান্য কেহ অংশ নিতে চায় তবে নির্বাচিতদের দ্বারা চিহ্নিত  হওয়া দরকার। সেই ক্ষেত্রে ধর্মঘট কমিটির অবশ্যই সতর্ক দৃস্টি রাখতে হবে ।

ধর্মঘট কমিটি যেকোন সময়ের যে কাউকে পিকেটিং লাইন থেকে সরিয়ে দেবার অধিকার রাখেন। কমিটি সিদ্বান্ত নিবেন কে কোথায় পিকেটিং করবেন। পিকেটিং লাইনে কোন ভাবেই মদ বা মাদক জাতীয় জিনিষ নিসিদ্ব রাখতে হবে ।

একটি ধর্মঘটে যদি বেশীর ভাগ শ্রমিক অনবিজ্ঞ হন তবে সম আদর্শে বিশ্বাসী একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আইনী ওরিয়েন্টেশন ক্লাশ নেয়া দরকার। বিশেষ করে হয়রানী বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে করনীয় কি কি তা জানানো দরকার। সেই ক্ষেত্রে আইনগত  সহায়তার খুবই প্রয়োজন হয়।

ধর্মঘট চলা কালিন সময়ে শ্রমিকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক নির্মান করা অতি জরুরী বিষয়- বিশেষ করে যারা একেই কারখানা বা শিল্পের কর্মে নিয়োজিত আছেন তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা খুবই দরকার। এই সম্পর্কে সকল প্রকার বহির আক্রমন থেকে শ্রমিকদেরকে সুরক্ষা দিবে।

ডাইরেক্ট একশন কার্যক্রমের আগে, চলাকালে এবং পরে নিয়মিত ভাবে শ্রমিকদের মাঝে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। কেন না এই বিপ্লবী লড়াই সংগ্রামের পথ অনেক দির্ঘ হতে পারে। যা সকলের জন্য একটি সুরক্ষা বর্ম হিসাবে কাজে আসবে ।

আলোচনা সভাঃ

ধর্মঘট চলাকালিন বা পরে এই বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা যেতে পারে। এই আলোচনায় কার্যক্রম সম্পর্কে নতুন ধারনা, রনকৌশল ও সংগ্রামের পদ্বতী নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ধর্মঘটের পর প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষন করে বিস্তারিত ভাবে লিখে রাখা দরকার। কাজের সফলতা ও বিফলতা সব কিছুই নজরে রাখা দরকার । ধর্মঘট কোন বিপ্লবের জন্য চূড়ান্ত কার্যক্রম নয়, তবে এটা বৃহত্তর সংগ্রাম লড়াইয়ে কাজে লাগতে পারে।

দখলঃ

আন্দোলন সংগ্রামের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হলো কারখানার অফিস ও উতপাদন কেন্দ্র দখল করে নেয়া । তবে ধর্মঘটকারী ও তার সমর্থকদের সংখ্যা অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নিতে হবে । দখল আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ন দিক । ৬০ ও ৭০ এর দশকে ব্রিটেনে এই প্রবনতা অনেক বৃদ্বি পেয়েছিলো।

ধর্মঘট সহযোগী গ্রুপঃ

ধর্মঘটের জন্য একটি সহযোগী গ্রুপ তৈরী করতে হবে। তবে এরা নিজে থেকে কিছুই করবেনা । মুল গ্রুপের নির্দেশনা মত এরা কাজ করে যাবে। কার্যক্রম চলাকালিন সময়ে যা যা বাহির থেকে আনা নেয়া করা দরকার তা তারা করবেন।

শেষ কথাঃ

উক্ত কথা গুলো একেবারেই প্রথমিক কথা। এখানে বর্নিত কোন কিছুই চুড়ান্ত নয়। স্থান, কাল ও ক্ষেত্র বিশেষে নতুন করে সিদ্বান্ত গ্রহন করা যেতে পারে।

0 Comments 0 Comments
0 Comments 0 Comments