এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন

এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন

একটি ফেডারেশন হলো একেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে গঠিত কয়েকটি সংঠনের একটি জোট। আমরা জোটবদ্ব হই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্বি ও এক সংগে কাজ করে আমাদের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে।

একটি ফেডারেশনের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে সেটা কি ধরনের সংঠনের সাথে সম্পর্কিত।

এনার্কো – সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে প্রথমেই দেখা দরকার এর সাথে  সম্পর্কি সদস্য কারা।

এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশনের সংগঠন সমূহঃ

সংগঠন সমূহ নানা ভাবে ফেডারেশনে যুক্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে বর্তমানে নানা ভাবে বিভিন্ন সংগঠন যুক্ত আছে। নিম্নে এর কয়েকটি ধরন উল্লেখ করা হলোঃ

  • স্থানীয় দলঃ কিছু সংগঠন যারা একেই কর্ম ক্ষেত্রে কর্মরতদের দ্বারা গঠিত, নিজেদের প্রয়োজনে নিজেরাই লড়াই সংগ্রাম করে থাকে।
  • কর্মক্ষেত্র ভিত্তিক ইউনিয়নঃ এটা কয়েকটি সংগঠন বা দল নিয়ে গড়ে উঠে, তা হতে পারে একেই কর্মক্ষেত্র বা একেই নিয়োগ কর্তার নিয়োগকৃত কর্মী বাহিনী।
  • ইউনিয়নের শাখাঃ কয়েকটি শ্রমিক দল, কিন্তু একেই কর্ম ক্ষেত্রের নয়। বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে বিস্তৃত।

তবে, এখানে সব কিছু সীমাবদ্ব নয়। আমরা কেবল  সরাসরি কর্মক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত সংগঠন করাকেই এবং অন্যদেরকে ও বিবেচনায় রেখেছি। যেমন- ভাড়াটিয়াদের ইউনিয়ন ও আমাদের কাজে যুক্ত হতে পারে, ছাত্রদের সংগঠন, বেকার লোকজন, এবং অস্থায়ী কর্মে নিয়োজিত লোকদের সংগঠন ও আমাদের কাজে জড়িত হতে পারেন ।

তাহলে কেমন করে সংগঠন ও ফেডারেশন গড়ে উঠতে পারে?

ফেডারেশন সমূহঃ

ফেডারেশন তাঁদের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে। যেমন- স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।

উদাহরন হলো, একটি শহরে একাধিক ইউনিয়ন গঠিত হতে পারে, নিজেদের মধ্যে ফেডারেশন গড়ে তুলে প্রচার প্রপাগান্ডাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

ফেডারেশনের ধরন ও প্রকৃতি নির্ভর করবে তাঁদের সংগঠন সমূহের বাস্তব চাহিদার উপর। উদাহরন হিসাবে বলা যায় তাঁরা একটি অঞ্চলে কেবল ভিবিন্ন ধরনের সংগঠন করবেন।  অন্য অঞ্চলে নয়।

দি ইন্টারন্যাশনার ওয়ার্কাস এসোসিয়েশন (আই, ডব্লিউ, এ) হলো জাতীয় সংগঠন সমূহের একটি ফেডারেশন, কিন্তু সেই জাতীয় ফেডারেশনের ভেতরে ও অন্যান্য ফেডারেশন থাকতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে ভৌগলিক অবস্থান ও সংগঠন সমূহের আকারের উপর।

ফেডারেশন কি ভাবে কাজ করে ?

নানা ভাবে ফেডারেশন কাজ করতে পারে। সাধারন ভাবে তাঁরা তাঁদের পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্বান্ত সমূহ  ফেদারেশনের মৌলিক নীতিমালার ভিত্তিতে তাঁদের কংগ্রেসে লিখিতি আকারে গ্রহন করে থাকে। মৌলিক নীতিমালা ও প্রয়োজনে ঐক্যমতের ভিত্তিতে পরিবর্তন করা যেতে পারে। তবে তা হতে হবে কংগ্রেসের মাধ্যমে।

স্থানীয় সংগঠন সমূহ তাঁদের কার্যক্রম সংক্রান্ত সিদ্বান্ত সমূহ গ্রহন করে থাকেন সদস্যদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের  এসেম্বলীতে। এটা এমন এক সভা যেখানে সকলেই প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও ভোট প্রদান করতে পারেন। সভায় সিদ্বান্ত সমূহ ও সাধারন কার্যক্রম সমূহ ফেডারেশন বা মৌলিক নীতিমালার ভিত্তিতে গ্রহন করা হয়।

ফেডারেশন ও স্থানীয় সংগঠনের মতই কোন নেতা নেই। তবে কিছু ব্যাক্তি সমন্বয় সাধনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন। এই লোক গুলো নির্বাচন করা হয়  স্ব স্ব কর্ম ক্ষেত্রে, স্থানীয় ভাবে, আঞ্চলিক ভাবে বা কনফেডারেশন পর্যায়ে। তাঁদের কিছু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়। উদাহরন হিসাবে একজন সম্পাদকের কথা বলা যায়, যিনি সকল সদস্যদের সাথে প্রয়োজনীয়  যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং সংগঠন সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসার জবাব দেন। তার আরো কিছু দায়িত্ব থাকতে পারে। তবে সদস্যগনই ঠিক করবেন কিকি কাজ করতে হবে বা আরো লোককে দায়িত্ব দিতে হবে কি না । এই সকল ক্ষেত্রে কিছু ব্যাতিক্রম থাকতে পারে বা তিনি কিছু দরকারী লোকের সহযোগিতা নিতে পারেন। উদাহরন হিসাবে বলা যায়,  কোন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন সম্পাদক প্রচারনা চালানোর জন্য বিশেষ ব্যাক্তি নিয়োগ করতে পারেন। প্রেস ও ইন্টারনেটে প্রাচার প্রপাগান্ডা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে কাজে লাগাতে পারেন । সেই জন্য দরকার হলে ডজন খানেক বা কয়েক শত জন ব্যাক্তিকে ও কাজ করাতে পারেন।  এর অর্থ হলো, আমাদের কার্যক্রম কেন্দ্রিভূত নয় বরং বিকেন্দ্রীকরনের সুযোগ আছে । এই প্রক্রিয়ায় বহু লোককে ভালো ভাবে কাজে লাগানো যায়। অর্থাৎ সংগঠন পরিচালনার জন্য বেশী সংখ্যক লোকের উপর নির্ভর করা হয়, তা একজন বা কয়েকজন ব্যাক্তির উপর নির্ভর করা হয় না । এটা ঠিকে থাকার জন্য এবং কনফেডারেশনের জন্য অতিব জরুরী বিষয় ।

সাধারন সম্পাদকের সাথে একজন কোষাধ্যক্ষ দরকার হয়।

নির্বাচিত লোকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

একজন কোষাধ্যক্ষ হলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের মধ্যে ভালো উদাহরন। ‘ম্যান্ডেট’ বলতে আমরা বুঝি একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি কি কাজ কতটুকু করতে পারবেন আর কতটুকু করতে পারবেন না তার সীমা নির্ধারন করে দেয়া । আধারনত একজন কোষাধ্যক্ষের কাজ হলো অর্থ সংগ্রহ করা, পরিকল্পনা মোতাবেক সংগঠনের কাজে সেই অর্থ খরচ করা এবং হিসাব সম্পাদন করা ।

সংঠনের সকল সদস্যই চলমান সাংগঠনিক কাজের সকল খরচের খবরা খবর জানেন, কেননা তাঁদের চাঁদায়ই সংগঠনের তহবীল গঠিত হয়। যেমন অফিস ভাড়া, প্রিন্টিং খরচ ও সংবাদ পত্র ক্রয় ইত্যাদি । সদস্যরা যখন কোন খরচ করতে সম্মত হন তখন তাঁরা অর্থ সম্পাদককে নির্দেশনা দিবেন যেন সেই নির্ধারিত খাতে বিল প্রদান করা হয়। তবে অর্থ সম্পাদক আয় ও খরচের ক্ষেত্রে নিজে কোন সিদ্বান্ত গ্রহন করতে পারবেন না । তাই সংগঠনের সকল আয় ব্যায়ের সিদ্বান্ত সদস্যদের উপর নির্ভরশীল ।

উদাহরন হলো, সদস্যগন সকলে মিলে একটি সভার মাধ্যমে বাজেট প্রনয়ন করবেন সকলে মিলে। অর্থ সম্পাদককে তার চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করবেন। কেননা এই সিদ্বান্ত সাধারন সদস্যদের সিদ্বান্তের ভিত্তিতে হবে কেননা সেই তহবিলের সকলের অংশ গ্রহন আছে ।

এনার্কো-সিন্ড্যিলালিজমের জন্য এই ধরনের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ন দিক। কেননা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করার জন্য এই ধরনের অংশগ্রহণ মূলক চর্চা করা সিদ্বান্ত গ্রহনে অতিব জরুরী বিষয়।

এই ধরনের সম্মিলিত ভাবে অংশগ্রহন মূলক সিদ্বান্ত গ্রহন প্রক্রিয়াই অন্যান্য সাধারন সংগঠন সমূহের সাথে এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় ।

স্বাধীনতা মানেই হলো সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, সম্মিলিত কাজ এবং সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে যাওয়া ।

0 Comments 0 Comments
0 Comments 0 Comments