জলবায়ু পরিবর্তনেরই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হল করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব !

জলবায়ু পরিবর্তনেরই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হল করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব !

জলবায়ু পরিবর্তনেরই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হল করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব !

এ কে এম শিহাব

এই ভাইরাসটি চীনের হুবে প্রদেশের উহান শহর থেকে উতপাত্তির মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দুনিয়ার বড় বড় সরকার ও ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র গুলোকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যারা ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছিলো। প্রকৃতির স্বাভাবিক রীতিনীতিকে যারা  বৃদ্বাংগুলীর তুড়িতে উড়িয়ে দিতেন। তাঁদের অবস্থা ও এখন ত্রাহি ত্রাহি । প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ  আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস এখন দুনিয়ার সামনে এক প্রানঘতি রোগ – মহামারী । যার নাম দেয়া হয়েছে –কোভিড-১৯।

আজকের দুনিয়ায় শ্রম বাজার, উৎপাদিত পন্যের সঞ্চালন সারা দুনিয়াময় বিস্তৃত। এক দেশ অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল। এক সমাজ অন্য সমাজের উপর নির্ভরশীল। ফলে আজকের বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত। লোকদের চলাচল ও বিশ্বপুজির মতই অবারিত ও ব্যাপক ভাবে প্রসারিত হয়েছে। ফলে অতি সহজেই কোভিড-১৯ মহামারী মানুষের দেহের উপর ভর করে সারা ভূবনময় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সর্বনাশা এই মহামারী আজ দুনিয়ার তাবৎ সরকার গুলোকে বাধ্য করেছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। জাতীয় প্রবৃদ্বি ও ব্যবসা বানিজ্যের লাভ ক্ষতির হিসাব নতুন করে করাতে  বাধ্য করছে। করোনার করানে অগনিত মানুষের আক্রান্ত হওয়া ও  মৃত্যুর কারনে সরকার সমূহ স্ব স্ব দেশে লকডাউনের ডাক দিয়েছে। মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে। মানুষকে বাধ্য করছে ঘরে থাকতে।

এই সকল উদ্যোগ দেখে আমাদেরকে উৎসাহিত করছে , আগামী দিনে সরকার গুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য হয়ত সচেতনতা সৃষ্টি করবে। আমরা চাই এই উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাস্তবায়িত হোক।

করোনা ভাইরাস ও জলবায়ু পরিবর্তন উভয়ই প্রায় একেই রকমের বিপদজক ইস্যু। আর এই ইস্যুটিই আমাদের দুনিয়া চলমান অর্থনৈতিক মডেলের সাথে  ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে অর্থনীতিতে উৎপাদনের কোন সীমাপরিসীমা নেই। যা আমাদের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুসংস্থানকে বিলয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। ভোগবাদি দর্শন আমাদেরকে এক সবর্নাশা পরিনতির দিকে নিয়ে এসেছে।

কেউ হয়ত যুক্তি দিতে পারেন, মহামারী টি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। আমাদের এখন প্রথম কাজ হলো মহামারীকে নিয়ন্ত্রন করা। এটা এখন বড় সংকট তৈরী করেছে। তাই পরিস্থিকে স্বাভাবিক করে অন্য ইস্যুর দিকে নজর দিতে  হবে।

কোভিড-১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তন একেই সূত্রে বাঁধাঃ

এখনো এক শ্রেণীর ক্ষমতাশালী চক্রের নিকট জলবায়ু ইস্যুটি উপেক্ষিত। কিন্তু আজ এটা সকলের নিকটই পরিস্কার যে, এই মহারীর পেছনের আসল কারন হলো মানুষের নানা মূখী কর্মযজ্ঞ। যেমন- শিল্প উৎপাদন।

স্ব স্ব দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকে চালু রাখতে এবং আরো ব্যাপকতর করতে মানুষ এই গ্রহটির পানি, মাটি, জ্বালানী, কাঠ, পাথর, পাহাড় জঙ্গলের বিনাশ করছে।  অবিবেচকের মত মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ আহরন করছে। সেই সম্পদ ব্যবহার করে শিল্পায়নের মাধ্যমে গাড়ী, বাড়ী, কাপড়, ফার্নিচার, টেলিফোন, খাদ্যের নানা কিসিমের প্রক্রিয়াজাতকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভোগের জন্য এই সকল পন্য যেমন ব্যাপক ভাবে উৎপাদন করছে আবার তাঁরা অনেক অপচয় ওকরছেন। বিশেষ করে সম্পদ শালীশ্রেনী মানুষ।

চলমান এই উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। উদাহরন হিসাবে বলা যায়, বনভূমির বিনাশ বাতাসে কার্বনের পরিমান বাড়িয়ে দেয় । অন্যদিকে সেই প্রক্রিয়ার  কারনে অনেক আবর্জনা বা পরিত্যাক্ত দ্রব্যের সৃজন হয়। যেমন- প্রানীজ জ্বালানী পুরানোর ফলে তৈরী হয় কার্বনের। আর আজ সকলেই একমত যে, এই কার্বনই হলো বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের আসল চালিকা শক্তি বা মৌল কারন।

এই দুষ্ট চক্রটিই হলো কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারন। মানুষের অবিবেচনা প্রসুত এবং সীমাহীন চাহিদা মানুষকে বাধ্য করেছে ভাইরাস সহ অন্যান্য প্রানী জগতের আবাসস্থ বিনাস করে দিতে। ফলে, সেই বিষাক্ত জীবানু ভাইরাস মানব দেহে আশ্রয় নিয়ে তান্ডব চালিয়ে মানব প্রজাতির উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

একই সময়ে, খাদ্যের ব্যাপক উত্পাদন বৃদ্ধির ফলে বড় আকারের খামার তৈরি হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রাণিসম্পদ এবং হাঁস-মুরগি উৎপাদিত হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক জীববিজ্ঞানী রব ওয়ালেস তাঁর “বিগ ফার্মস মেক বিগ ফ্লু”- বইয়ে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এটি হেপাটাইটিস ই, নিপা ভাইরাস, কিউ ফিভার এবং অন্যান্য নানা জাতীয় নতুন রোগের রূপান্তর ও উত্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) মনে করে যে চারটি নতুন সংক্রামক রোগের মধ্যে তিনটিই মানব-প্রাণীর সংস্পর্শে আসে। উদাহরণস্বরূপ, মার্সের মতো ইবোলা এবং অন্যান্য করোনভাইরাসগুলির প্রাদুর্ভাবসমূহ প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলিতে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত  হতে সাহায্য করেছে।

বিজ্ঞানীগন অনুমান করেন যে, উহান শহরের একটি নোংরা কর্দমাক্ত বাজার  যেখানে বন্য পশু পাখী বিক্রি হয় সেই বাজার থেকে এই করোনা ভাইরাসটি মানব দেহে সংক্রমিত হয়ে সারা দুনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

অনুধাবন যোগ্য যে, পানগোলিন, সিভেট বিড়াল, শিয়াল, বুনো গিজ এবং শুয়োর সহ বন্য প্রাণীর ব্যাপক পরিমাণে প্রজনন চীনের একটি ৭৪  বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রাণীজ শিল্প প্রকল্প এবং এটি চীনা গ্রামীণ জনগণের দ্বারা পরিচালিত একটি সমৃদ্ধ-দ্রুত- বর্ধনশীল প্রকল্প । এখানে প্রচুর মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

এই প্রকল্পের কার্যক্রম একটি বড় উদাহরন হলো যে, পুঁজিবাদ কেমন করে মানব জীবনকে পন্যে পরিনত করতে এবং অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য  মানুষের জীবনকেই  বিপন্ন করে তুলে। চলমান এই মহামারী প্রমান করেছে নিয়ন্ত্রনহীন পন্য উৎপাদনের জন্য মানুষ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ কে বিনাস করতে পুঁজিবাদ দ্বিধা করে না ।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ সম্প্রতি বলেছে যে COVID-19 থেকে পুনরুদ্ধার করার জন্য কাঠামোগত সামঞ্জস্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা দরকার, যার মধ্যে "অতিরিক্ত বিধি, ভর্তুকি, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, বাণিজ্য সুরক্ষা ... পালনের জন্য ... বাজার, পছন্দ এবং দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকবে। "

প্রথম দিকে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র বলেছিলো, এসব কিছু নয় । মাত্র দুই সপ্তাহেই সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু এখন তাঁদের মনে হচ্ছে এই ধারনা সঠিক নয়। পরিবেশ সংক্রান্ত আইন, বিধি ইত্যাদি ব্যাপক পরিবর্তন এনে পরিবেশ প্রতিবেশের সুরক্ষা না দিতে পারলে মানব সভ্যতাই হুমকীর মূখে পড়ে যাবে। তাই তাঁরা কোভিড-১৯ সহ অন্যান্য বিষয় গুলোকে আর হালকা ভাবে নিচ্ছেন না । এখন দেখার বিষয় হলো তাঁরা তাঁদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কি ভূমিকায় অবতির্ন হন।

জলবায়ুর পরিবর্তন চলছেইঃ

ইতিমধ্যে কোভিড -১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তন উভয়কেই  আপত্তিজনক ও ক্ষতিকর অর্থনৈতিক আচরণের মূল হিসাবে এবং উভয়ই মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে, সরকারসমূহকে এবং এগুলিকে পৃথক নয় বরং  তাদেরকে সম্পর্ক যুক্ত ঘটনা হিসাবে দেখেছে এবং তাই তাদের পরিবর্তনের জন্য নিজেদের  প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ - বিবিধ মাত্রায় বিলম্ব হওয়া সত্ত্বেও, এমনকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উপেক্ষা করেও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের প্রতিরোধ করার জন্য লোকদের চলাচল ও জমায়েত ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটি ঘটেনি। বর্তমানের জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাগুলির ক্ষেত্রে আমরা যে পরিবেশগত পরিবর্তনগুলি উপভোগ করছি তার স্কেল এবং অগ্রগতি সম্পর্কে সামান্যই মনোযোগ দিয়ছি। জলবায়ু পরিবর্তন চার বছরের নির্বাচনের চক্র বা পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুসরণ করে না। এটি ২০৩০ বা ২০৫০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য  ও অপেক্ষা করে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বিভিন্ন গতিতে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্রগতি লাভ করেছে এবং যদিও আমাদের কারও কারও জন্য এই পরিবর্তনগুলি সুস্পষ্ট বা স্পষ্ট নাও হতে পারে, তবে তা ঘটছে। কিছু নির্দিষ্ট মানদন্ড ও রয়েছে যা পার হয়ে গেলে পরিবর্তনটি অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠবে - বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব, পশু পাখী ও পোকামাকড়ের বিনাস হয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।

কোভিড-১৯ এর কারনে প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা আমরা প্রতিনিয়ত আপডেট পাচ্ছি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষ ও প্রানী কুলের মৃত্যুর পরিসংখ্যান না পেলেও তা ভাইরাসের চেয়ে ও আরো ভয়ঙ্কর।

আমাদেরকে প্রাক-শিল্প স্তরের উপরে ৩ সি এবং ৪ সি এর গ্লোবাল ওয়ার্মিং সহজেই একটি সিরিজ বিপর্যয়মূলক ফলাফলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি মাটির উর্বরতা হ্রাস, খরার তীব্রতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে, কৃষিতে পরাগরেনুদের ক্ষতি বাড়িয়ে খাদ্য উত্পাদন করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, এটি বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপমাত্রার কারণ হতে পারে, যা ইতিমধ্যে উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে । উচ্চ তাপমাত্রা এবং মনুষ্য সৃষ্টি   দাবানলের পাশাপাশি হারিকেনের মতো আরও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, কার্বন অফসেটিং স্কিম, ইনক্রিমেন্টাল ইকো-দক্ষতা, ধনী ব্যক্তিদের জন্য নিরামিষাশীদের ধরনের খাদ্য এবং অন্যান্য অনুরূপ কৌশলগুলি জলবায়ু পরিবর্তন বন্ধ করবে না ।  কারণ তারা ব্যাপক শিল্প উত্পাদন এবং ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে না ।তবে কেবল তাদের স্টাইল পরিবর্তন করে। এ জাতীয় পন্থাগুলি কখনই কার্যকর হবে না । কারণ তারা আমাদের উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন জীবনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমূল পরিবর্তনকে গ্ররুত্বই দেয় না যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে এবং  নির্গমন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

বিশ্বজুড়ে COVID-19- এর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন সাময়িক মুহূর্তের জন্য সমাজের চলমান ব্রেকটিকে চাপ দেওয়ার জন্য অসাধারণ দক্ষতার চিত্র তুলে ধরে। এটি দেখায় যে আমরা চাইলে আমূল পদক্ষেপ নিতে পারি।

বিশ্বজুড়ে লকডাউন এর ফলে গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং দূষণকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে তার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনে লকডাউনটি কার্বন ডাই অক্সাইডকে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ এবং নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ৩৭শতাংশকে হ্রাস করেছে।

গৃহিত পক্ষেপ সমূহঃ

গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির এই অস্থায়ী হ্রাস করনকে স্বাগত জানানোর কিছু নেই।  আসল বিষয়টি হ'ল লকডাউনের ফলস্বরূপ, লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যে তাদের চাকরি হারিয়ে ফেলেছে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ  অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।

যদিও কেউ কেউ জলবায়ু পরিবর্তনকে COVID-19 মহামারীর প্রতিক্রিয়া হিসাবে গ্রহণের মতোই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, এমনটি হওয়া উচিত নয়। আমাদের একটি ন্যায্য জলবায়ু ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন যা দরিদ্র এবং সবচেয়ে দুর্বলদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং যা আমাদের মহামারী নিয়ন্ত্রনের সাথে সংহত হবে । এটি কেবল যে জলবায়ু বিপর্যয়কে নিয়ন্ত্রন করবে তা নয় বরং  বর্তমানের মতো নতুন মহামারীর ঝুঁকিও হ্রাস করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের "পরিকল্পিত অবক্ষয়" রোধের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার জড়িত হওয়া উচিত যা মুনাফার মার্জিনের তুলনায় মানুষের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দিবে ।  এখন যে পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে  নেয়া হয়েছে বাপ্যাকেজগুলি ঘোষণা করা হয়েছে তা নিশ্চিত করা  যেনকর্পোরেশনগুলির  অর্থ অপচয় করা না হয় ।

আমাদের অবশ্যই সর্বদা এমন পরিস্থিতি এড়াতে হবে যেখানে অসাধু বড় ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের অবিচ্ছিন্ন বৈশ্বিক বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করার জন্য অবাধ রাজত্বের অনুমতি দেওয়া হয় ।  যখন বাকী নাগরিক সমাজ ঘরে বসে থাকে।

আমাদের দাবি করা উচিত যে গ্রিন নিউডিল বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে এবং কোভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিকশিত পুন ব্যবহার উপযোগী শক্তি উত্পাদনকে সরকারী তহবিলের  পাশাপাশি অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থাকে বরাদ্দ দিতে হবে। সমান্তরালভাবে, আমাদের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং নিখরচায় শিক্ষার বিধান, সমস্ত অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

COVID-19- এর বর্তমান প্রতিক্রিয়া এই কয়েকটি পরিবর্তনের সূচনা করতে সহায়তা করতে পারে। এটি আমাদের জীবনযাপন এবং কাজের ধরণগুলিতে অভ্যস্ত হতে হবে যা খরচ কমিয়ে দিবে । এটি আমাদের যাতায়াত এবং কম ভ্রমণ, পরিবারের বর্জ্য হ্রাস করতে, কাজের সময় কমিয়ে আনা এবং স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলার উপর বেশি নির্ভর করতে উত্সাহিত করতে হবে - যেমন এমন কর্ম যা শ্রমজীবী শ্রেণীর জীবনযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে না তবে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে বিশ্বায়িত থেকে আরও স্থানীয়করণে স্থানান্তরিত করতে সহায়তা করে।

গতানুগতিক ধারায় স্পষ্টতই, COVID-19 এর সাথে সম্পর্কিত শর্তগুলি আদর্শ নয়, তবে ভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসাবে এই গুলো দ্রুত এবং জরুরি কাজ।পারস্পরিক সহায়তার অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণগুলি ব্যবহার  করে মানবতার জন্য  সমাজ সামগ্রিকভাবে মারাত্মক বিপদের মুখোমুখি হয়েওসম্মিলিতভাবে কাজ করতে  আরও বেশি সক্ষম ।

0 Comments
Loading...