“দি আই অফ ডার্কনেস” উপন্যাস ও কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে কিছু কথা

“দি আই অফ ডার্কনেস” উপন্যাস ও কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে কিছু কথা

“দি আই অফ ডার্কনেস” উপন্যাস ও কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে কিছু কথা

-      এ কে এম শিহাব

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এখন বিশ্ব মহামারী হিসাবে ঘোষিত হয়েছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ আতঙ্কিত ও উদ্বেগের সাথে নিজেদের দেখা সিনেমা, বই-পুস্তক ও সংবাদ পত্রের সাথে মিলিয়ে নিয়ে উদ্বেগ নিরসনের প্রয়াস পাচ্ছেন।

তাদের মধ্যে কিছু অতি উৎসাহী  লোক এই মুহুর্তে যা ঘটছে  তা  দেখে, ইন্টারনেটে দাবি করতে শুরু করেছেন যে “দি  আই অফ ডার্কনেসে”র  গল্পকারসহ আরো কয়েকজন করণাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার “ভবিষৎবাণী” করেছিলেন।

সবচেয়ে আলোচিত উদাহরন হলো, ডেন কোন্তজ এর একটি রুমাঞ্চকর উপন্যাস যার নাম “ দি আই অফ ডার্কনেস” । প্রথম দিকে  কোন একজন ব্যাক্তি সেই বইয়ের পাতা থেকে আংশিক ভাবে  কিছু লাইন স্ক্রিনশর্ট নিয়ে টুইটারে টুইট করেন। পরে এটা ভাইরাল হয়ে যায়। আর তাঁর সাথে অনেক গাল গল্প যুক্ত হয়ে বিষয়টিকে ভবিষ্যতবাণীর স্তরে উন্নিত করে দেয় । আদতে এটা কিছুই নয়। এই বইটি ডেন কোন্তজের একটি কথা সাহিত্য কর্ম বা উপন্যাস ।

তাই আসুন বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখি।

উপন্যাসে ভাইরাসটিকে মানব সৃষ্ট একটি জৈব-অস্ত্র হিসাবে বলা হয়েছে।

টুইটারে ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হওয়া উপন্যাসের পাতা থেকে নেয়া স্ক্রিনশর্টে ডোম্বী নামক একটি চরিত্র বলছে, “উহান-৪০০” নামে এক টি জৈব অস্ত্র নিয়ে চীনের একজন বিজ্ঞানী আমেরিকায় এসেছেন ।

ডোম্বি বলেছিলেন, "আপনাকে বিশ মাস পিছিয়ে যেতে হবে। আর সেই সময়ই লি চেন নামে একজন চীনা বিজ্ঞানী বিগত এক দশকের মধ্যে  চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপজ্জনক নতুন জৈবিক অস্ত্রের একটি ডিস্কিট রেকর্ড বহন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  নিয়ে আসেন।  তারা এটাকে 'উহান -৪০০' বলে চিহ্নিত করেছে। কারণ এটিকে উহান শহরের বাইরে তাদের RDNA ল্যাবগুলিতে তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি হল গবেষণা কেন্দ্রটিতে তৈরি মানবসৃষ্ট অণুজীবের মধ্যে চারশত তম কার্যক্ষম স্ট্রেন । "

প্রথমতঃ ১৯৮১ ইংরেজী সালে “দি আই অফ ডার্কনেস” বইটি যখন প্রকাশিত হয় তখন সেই মূল বইতে উল্লেখিত জৈব অস্ত্রের নাম ছিলো “গোর্কি-৪০০” আর এটা ছিলো রাশিয়ার একটি অঞ্চলের নাম। আর সেই সময়টা ছিলো  সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ও পুঁজিবাদী আমেরিকার মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের উতপ্ত সময়। পরবর্তীতে, বইটি আবার সংশোধিত আঁকারে প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। তখন “গোর্কি-৪০০” এর স্থলে লিখা হয় “উহান-৪০০”।

এটা সত্য, করোনা ভাইরাস চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বময় । কিন্তু যারা এটাকে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে প্রচার করছেন তাঁদের দাবী একেবারেই প্রমানিত নয়। ইতিমধ্যে নানা রকম পরিক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষনার পর চীন ও পশ্চিমা বিজ্ঞানীগন সেই দাবী ও প্রচারনাকে একেবারেই বিত্তিহীন ও অসত্য বলে বাতিল করে দিয়েছেন।

গবেষক ও স্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞগন প্রনান্তকর চেষ্টা করছেন, এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উৎসস্থল খোঁজে বেড় করার জন্য। কোন কোন গবেষক বলছেন, এই ভাইরাসটি বাদুরের মধ্যে থাকতে পারে। যা কোন ভাবে মানুষের মাঝে প্রথমে সংক্রমিত হয়েছে-এবং পরে ব্যাপক ভাবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে। যা অনেকটা ২০০৩ সালের SARS ভাইরাসের মত।

দ্বিতীয়তঃ ডেন কোন্তজের উপন্যাস “দি আই অফ ডার্কনেস” এ দাবী করা হয়েছে, ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর হার হবে ১০০%।

পরবর্তী অণুচ্ছেদে উপন্যাসের চরিত্র ডম্বী বলেছে, যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হবে তাঁদের কেহই বাঁচবে নাঃ

“ উহান-৪০০” দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হয়ে মাত্র চার ঘন্টার মধ্যে বা জীবনুটির সুপ্ত সময়ের ভেতরই অন্যকেও আপনি সংক্রমিত করতে পারেন। যারাই আপনার সংস্পর্শে আসবে সেই আপনার দ্বারা সংক্রমিত হবে। “উহান-৪০০” দ্বারা একবার সংক্রমিত হলে চব্বিশ ঘণ্টা নয় ; মাত্র বার ঘন্টার মধ্যেই প্রায় সকলই  মারা যাবেন”।

-      তাহলে, বলতেই হয় এটা ‘করোনাভাইরাস’ নয়।

প্রথমত, সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুসারে, করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত লোকেরা এক্সপোজারের পাঁচ দিন পরে এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রে  দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিনের  মধ্যে লক্ষণগুলি বিকাশের প্রবণতা দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের মৃত্যুর হার 100% এর কাছাকাছিও নয়।

ভাইরাসটি মারাত্মক হতে পারে সেই সকল লোকদের জন্য যাদের বয়স বেশী বা প্রবীন। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম  এবং যারা ইতিমধ্যে  অন্যান্য গুরুতর অসুখে ভোগছেন।

নানা দেশের স্বাস্থ্য গবেষকগন দাবী করছেন, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩%-৪% এর বেশী হবে না। এমন কি এই মৃত্যুর আরো কমে যেতে পারে।

তাই এটা বলা যায় যে, ডেন কোন্তজ একজন ভালো কথা শিল্পী বা উপন্যাসিক। তিনি কোন ভাবেই ভবিষ্যৎ বক্তা নন।

0 Comments
Loading...